বাংলাদেশে ২০১৫ সালের নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার তথ্য

বিগত দু’দশকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এবং শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশে আইনী কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে; নেওয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। কিন্তু সামগ্রিক বিবেচনায় ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্পষ্টত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বেড়েছে। সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী ও শিশুদের উপর সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তাই পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নারী নিজ পরিবারেই নির্যাতিত হচ্ছে বেশি। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় সহিংসতার শিকার অনেক নারী ও শিশু চাইলেও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। ফলে সহিংসতার শিকার হয়েও তারা তা সহ্য করছে বাধ্য হয়ে।

 

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ১৯৯৯ সাল থেকে “বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে। যেখানে সংবাদপত্র থেকে সংগৃহিত তথ্যের পাশাপাশি সমিতির সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রের তথ্য, সদস্যদের প্রদেয় তথ্য, সত্যানুসন্ধান ও সমমনা সংগঠনের প্রকাশিত বিভিন্ন উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সমিতি কর্তৃক ২০১৫ সালের নারীর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

 

মামলার নথি পর্যালোচনাঃ অভিযুক্তদের বয়স বিশ্লেষণ

অভিযুক্তদের বয়স বিশ্লেষণ ও পারষ্পারিক অবস্থা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি দৈব চয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত ১০টি থানা থেকে সংগৃহিত এবং সমিতির কাছে আইন সহায়তা প্রার্থীদের দাখিলকৃত ১৬০টি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে। নথিপত্রে যৌতুকের কারণে নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা, অপহরণ, মানব পাচার, পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদি অপরাধে ২৮২ জনের বিরুদ্ধে এজাহার বা অভিযোগ করা হয়েছে, যাদের ২৩৮ জন পুরুষ ও ৪৪জন নারী। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৮%, ১৮-২৪ বছর বয়সী ৪৫%, ২৫-৩৫ বছর বয়সী ২১%, ৩৬-৫০ বছর বয়সী ১৮%এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৮%। অর্ধেকের বেশি অভিযুক্ত ব্যক্তির (৫৩%) বয়স ২৫ বছরের কম। নারী ও শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর ও ঘৃন্য নির্যাতনের সাথে কোমলমতি শিশু ও তরুণদের জড়িত হওয়া আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক, সামাজিক ও পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুদের সঠিক পথে চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। পরিবার বা সমাজে নারী ও শিশুর অধিকার সম্পর্কে জানার ব্যবস্থা না থাকা এবং অপরের অধিকারের বিষয়ে সচেতন না হওয়ার কারণে কর্তব্য পালন করতে পারছে না। বাংলাদেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় জোরালো আইনী কাঠমো থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতি প্রচলিত সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সহিংসতা কমছে না। বরং এভাবে চলতে থাকলে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাড়তেই থাকবে।

 

সমিতি কর্তৃক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণের আলোকে নারী  শিশুর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিগত দু’বছরের নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হল:

  • সর্বসাকুল্যে ২০১৫ সালে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে (৩৫%) বেড়েছে। এছাড়া যৌতুকের কারণে নির্যাতন (২৮%), যৌন হয়রানি (including stalking) (২৪%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কমেছে গৃহকর্মী নির্যাতন ৫৬%, ফতোয়া ৪৩% এবং এসিড সন্ত্রাস ২২%।
  • ২০১৫ সালে ১৮৪৭ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং সহিংসতার শিকার হয়ে ৩০১ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
  • সংবাদপত্রে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন বা তার বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
  • ২০১৫ সালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সহিংসতার শুধুমাত্র এক-তৃতীয়াংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

২০১৫ সালে আলোচিত ঘটনার আলোকে নিচে সহিংসতার ধরণ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরা হলো।

 

যৌন হয়রানি

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় যৌন হয়রানি বছরের বহুল আলোচিত ঘটনা। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক পর্যালোচনা ও ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তদন্ত করে এ অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকেই সনাক্ত করতে পারে নি। বরং অভিযুক্তদের অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আমরা পুলিশের এ প্রতিবেদনে হতাশ হয়েছি। বহুল আলোচিত এ ধরণের সুনির্দিষ্ট ঘটনার অপরাধীরা আইনের আওতায় না আসায় যৌন হয়রানি ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সালে ৩৬২জন যৌন হয়রানি বা যৌন হয়রানির ঘটনা প্রতিবাদ করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ০৭জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

 

ইউএন উইমেন এর সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি বাস্তবায়িত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো-বিষয়ক প্রকল্পের ভিত্তি জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কিছু জানেন না। স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির বেশির ভাগ ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে না। যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে এখনও বড় ঘটনা বা অপরাধ হিসেবেই ভাবা হচ্ছে না।

 

পর্ণোগ্রাফি

৩০ আগস্ট ২০১৫ দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীর (১৮) নাম যুক্ত করে বিভিন্ন কম্পিউটার, টেলিকমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফি প্রচার করা হয়। রাহয়ান আলী নামে এক বখাটে যুবক ঐ পর্ণোগ্রাফি কলেজছাত্রীকে দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। ২০১৫ সালে এ রকম ৪৯টি ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। দিন দিন পর্ণোগ্রাফির মাধ্যমে নারী ও শিশুদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগেী অনেক নারী ও শিশু আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না। এ ধরণের অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। ফলে এ ধরণের অপরাধ নিরোধ করা দূরুহ হয়ে যাচ্ছে।

 

ফতোয়া

মার্চ ১৪, ২০১৫দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় বিয়ের কাবিনে প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করায় লালমনিরহাটে সমাজপতিরা নব বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীকে বিচারের নামে দোররা মেরেছে। পরিবারটির উপর ফতোয়া জারি করে এক ঘরে করে রাখা হয়। তবে ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ফতোয়ার ঘটনা ৪৩% হ্রাস পেয়েছে। ২০১৫ সালে ২১ জন নারী ও শিশু ফতোয়ার শিকার হয়েছেন।

 

ধর্ষণ

২১ মে, ২০১৫ রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গারো তরুণীকে গণধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা (দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ মে, ২০১৫)। ২৬ জুলাই, ২০১৫ দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে একা পেয়ে জুয়েল ও মিন্টু একটি ঘরে নিয়ে শিশু রুবিনাকে (৭) ধর্ষণ করে। এতে শিশুটির অনেক রক্তক্ষরণ হলে তাঁরা গলাটিপে হত্যা করে শিশুটির লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে পার্শ্ববর্তী বিলের একটি ঝোপে ফেলে দেয় (সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৫, দৈনিক প্রথম আলো)। এ রকম শত শত লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারি।

 

বিগত কয়েক বছর জ্যামিতিক হারে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। ২০১৫ সালে ১০৬৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৫% বেশি। সংবাদপত্রে ধর্ষণের শিকার সকল নারী ও শিশুর বয়স উল্লেখ থাকে না। যাদের বয়স উল্লেখ রয়েছে তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ শিশু (১৮ বছরের নিচে বয়স) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০১৫ সালে নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর ৭২জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ০৫জন ধর্ষণের শিকার হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছে।

 

এসিড সন্ত্রাস

সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে তুলনামূলক হারে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৫ সালে ৪৫জন নারী ও শিশু এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২২% কম। জুলাই ২৩,২০১৫ দৈনিক আমদের সময় পত্রিকায় যশোরের শার্শায় এক বখাটে কর্তৃক সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে এসিড নিক্ষেপের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে মেয়েটির মুখ ও শরীরের কয়েকটি স্থান ঝলসে যায়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে ২৯%-ই প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায়, ১৮% শত্রুতার কারণে এবং ০৭% যৌতুক ও স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি না দেওয়ায় অন্তত ০৭% সহিংসতার শিকার হয়েছে।

 

পাচার, অপহরণ  উদ্বার

মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারীরা যাচ্ছেন চাকরির আশায়। কিন্তু তারা প্রায়শ প্রতারনা ও নির্যাতনের শিকার হন। হাত-পা কাটা, আগুনে ছেঁকা ছাড়াও বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়। ২৮ এপ্রিল এক গৃহবধূকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে লেবাননে নেয়া হয়। লেবাননের এয়ারপোর্ট থেকেই ওই গৃহবধূকে উক্ত দেশের পতিতালয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে দেয়া হয় (মে ২৮, ২০১৫; দৈনিক সংবাদ)। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ডেউয়াতলা গ্রামে এক যুবতীকে তার মায়ের সামনে থেকে অপহরণ করা হয় (ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৫; বাংলাদেশ প্রতিদিন)।

 

ভারতের সমাজকল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৮টি রুট দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নারী ও শিশু অবৈধ পথে ভারতে পাচার হচ্ছে। পাচারকারীরা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে নারী ও শিশু পাচার করে। সমিতি কর্তৃক প্রত্যাবাসনকৃতদের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাচারের শিকার ৬০ ভাগ কিশোরীর বয়স ১২ বছর থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

 

২০১৫ সালে ২৫ জন নারী ও শিশুর পাচার হওয়ার তথ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে ২৭০ জন অপহরণ, ৭৮জন নিখোঁজ এবং ৭৬০ জন নারী ও শিশুর উদ্বারের তথ্য পুঞ্জিভূত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংকলিত তথ্য থেকে দেখা যায়,জানুয়ারি-নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৮০৩টি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে ৪৭৭ জন নারী ও শিশু পাচারের শিকার। কিন্তু এই ১১ মাসে মাত্র ০৪জন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাবস্ত হয়েছে। মামলার গতি তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যন্ত অত্যন্ত শ্লথ হওয়ায় এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি না করতে পারায় অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীন বাংলাদেশে দায়েরকৃত প্রথম মামলার রায়ে একমাত্র অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মামলা পরিচালনায় সমিতির ফরিদপুর জেলার সদস্যগণ সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করেছেন।

 

পারিবারিক সহিংসতা

টঙ্গীর জামাইবাজার এলাকার ভাড়া বাসায় স্বামী জুয়েল হাসান চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে শিউলির চোখ তুলে তাকে ভেতরে রেখেই বাসা তালাবদ্ধ করে চলে যায়। পরে শিউলির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশের সহায়তায় ঘরের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। মানুষটির চোখ দু’টির ওপর পাশবিক বর্বরতা চালানো হয়। বাঁ চোখের ‘আই বল’ তুলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ডান চোখের ‘আই বল’ একেবারে তুলে ফেলা না হলেও ক্ষতবিক্ষত করে চিরদিনের জন্য অকেজো করে ফেলা হয়েছে। দুই চোখেরই পাতাগুলো ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হয় (৮ নভেম্বর, ২০১৫; দৈনিক কালের কণ্ঠ)। ২০১৫ সালে ৯৯৬জন নারী ও শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশকে (৪৮২জন)স্বামী হত্যা করেছে এবং পারিবারিক সহিংসতার কারণে ১৪৫জন ( মোট পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুর ১৫%) আত্মহত্যা করেছে। ঘরের মধ্যে অতি আপনজন কর্তৃক নারী ও শিশুর হত্যা বা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার ঘটনানারী ও শিশুর ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার চিত্র প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, সংবাদপত্রে মূলত আলোচিত ও ভয়াবহ পারিবারিক সহিংসতার তথ্য প্রকাশিত হয়।

 

যৌতুকের কারণে নির্যাতন

১৭ জুলাই, ২০১৫ ঢাকা জেলার সাভারের জিঞ্জিরার কলমা গ্রামের ভাড়া বাসায় দেড় লাখ টাকা যৌতুকের জন্য ইলেকট্রিক টেস্টার দিয়ে সুখীর এক চোখ উপড়ে ফেলে স্বামী রবিউল, ভাসুর, দেবর ও ননদ। ডান চোখ উপড়ে ফেলার পর বাম চোখেও আঘাত করে তারা। এলাকাবাসী সুখীকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে যায়। আর রবিউলকে আটক করে তুলে দেয় পুলিশের হাতে। (০৫ আগস্ট ২০১৫. দৈনিক যুগান্তর)

 

২০১৫ সালে ৩৯২ জন নারী যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৮% বেশি। এদের মধ্যে ১৯২জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার ১৮জন আত্মহত্যা করেছে।

 

গৃহকর্মী নির্যাতন

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ক্রিকেটার শাহাদাতের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। উক্ত গৃহকর্মীকে উদ্ধারের সময় তার শরীরে প্রচুর নতুন ও পুরনো নির্যাতনের চিহ্ন ছিল (অক্টোবর ৫, ২০১৫, দৈনিক সমকাল)। ১৯আগস্ট, ২০১৫ সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটেটের বাসা থেকে নির্যাতিত শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী। উদ্ধার করার সময় মেয়েটির মাথার চুল কাটা ছিল এবং তার হাতে, পিঠে ও কোমরের নিচে আগুনে পোড়াসহ একাধিক স্থানে ক্ষত ছিল (আগস্ট ২০, ২০১৫, দৈনিক নয়াদিগন্ত)। দায়িত্বশীল কিংবা জনপ্রিয় কোন ব্যক্তির ঘরেগৃহকর্মী নির্যাতনের এ ধরণের ঘটনা আমাদের বিচলিত করে। ২০১৫ সালে ৪৮ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের ১৫জনকে হত্যা এবং ১৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

 

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের চলমান এডভোকেসি কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সরকার ২০১৫ সালে গৃহকর্মীদের জন্য ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা’ অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে গৃহকর্ম শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং সবেতনে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও অন্য ছুটি ভোগ করতে পারবেন গৃহকর্মীরা। শ্রম আইন অনুযায়ী গৃহকর্মীরা বিশ্রামসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই নীতিমালায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের গৃহকর্মী নিয়োগ প্রদানে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গৃহকর্মীদের শ্রমঘণ্টা এবং বেতন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। সমিতি এই নীতিমালা অনুমোদন করায় সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছে।

 

শিশুহত্যা

২০১৫ সালে ১৯৩ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৪) হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি কামরুলসহ চারজনকে ফাঁসি ও সাতজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং খুলনায় শিশু রাকিব হত্যা মামলার রায়ে ২ জনকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি সন্তোষ প্রকাশ করছে। ০৮ নভেম্বর, ২০১৫ এ রায় প্রদান করা হয়। দু’টি মামলার রায় এ সময়ে প্রকাশ পেয়েছে, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাজনকে চুরির অপবাদে এবং গত ৩ আগস্ট রাকিবকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।দেশের সচেতন জনগনের তুমুল প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ফলে দু’টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া সরকারের সদিচ্ছাও মামলা দু’টি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সমিতি বিশ্বাস করে, অপরাধীরা নৃশংস ও নির্মম হত্যাকান্ড সংঘটন করে যে অসুস্থ বিনোদনে মেতে উঠেছিল, এ রায়ের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটবে। আমরা চাই না আর কোন শিশুর জীবনে মর্মান্তিক ও নির্দয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটুক। প্রতিটি শিশু নির্যাতন ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠবে, এটি তাদের অধিকার। এ অধিকার অটুট থাকুক- এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সংকলিত তথ্য

পুলিশ সদর দপ্তরের সংকলিত নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় ২০১৪ সালে ২১২৯১ টি মামলা হলেও ২০১৫ সালে ২১৭২২টি মামলা (প্রাক্কলিত, ১১ মাসে ১৯৯০২টি) রেকর্ড হয়েছে। যা অন্তত ২% মামলা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশে প্রতিদিন ৬০টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়, ঘন্টায় ২.৪৭টি মামলা। সর্বাধিক ৪৭১৪টি মামলা ঢাকা রেঞ্জে এবং সর্বনিম্ন রেলওয়ে রেঞ্জে ৫টি মামলার রেকর্ড পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন আইনী সেবা কেন্দ্রে ২০১৫ সালে ১৭৬৮৪জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বাধিক। এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় ২০১৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

নারী  শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ  সুপারিশ

  • বিচার ব্যবস্থায় সারভাইভরকে গৌণ হিসেবে বিবেচনায় না নিয়ে মুখ্য হিসেবে গণ্য করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে;
  • সহিংসতার শিকার ব্যক্তি যাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় (Multi disciplinary approach) প্রয়োজনীয় সকল ধরণের সহায়তা পায় এমন পদ্ধতি প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ করা;
  • মাথাপিছু আয় বিবেচনায় বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী ও শিশু নির্যাতন ইত্যাদি মানব উন্নয়ন সূচককে নিম্নমুখী করছে। তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে সরকারকে এ খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করতে হবে;
  • উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থাকা সত্ত্বেও পর্ণোগ্রাফি ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিটিআরসি-কে পর্ণো সাইট বন্ধ এবং এ ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যাবস্থা জোরদার করতে হবে;
  • বিচার ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা;
  • বাংলাদেশে পর্ণোগ্রাফি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী সনাক্তকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারিক কর্মকর্তার কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষত আইটি ফরেনসিক ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে;
  • নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রমে পুরুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধ কার্যক্রমে তাদের অঙ্গীকার আদায় করা;
  • নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গৃহিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা;
  • নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হচ্ছে নির্যাতনকারীর শাস্তি না হওয়া। যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার হওয়ার কথা, বাস্তবে সেখানে ৫ থেকে ১০ বছর লেগে যাচ্ছে। বিচার দ্রুত হলে এবং মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হলে নারী নির্যাতনের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
  • মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল না থাকায় মানব পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলি বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়ে থাকে ফলে এ ট্রাইব্যুনালের উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনে অতিশীঘ্র বিভিন্ন জেলায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে;
  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২, পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২সহ নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে বিদ্যমান অন্যান্য আইনের অধীন দায়েরকৃত মামলাসমূহ নিয়মিত মনিটরিং এর আওতায় আনা এবং আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করা এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা;
  • নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, শিক্ষক, কর্পোরেট সেক্টর, এনজিও এবং অন্যান্যদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি মনিটরিং এবং পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এই কমিটি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগে সক্রিয়ভাবে যথাযথ কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে;
  • পরিবার থেকে শুরু করে কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা;
  • সর্বোপরি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সকল স্টেকইহোল্ডারের কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা এবং তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

 

 

২০১৬ সালে আমাদের প্রত্যাশা

২০১৫ সালের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নতুন বছরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবে। নিশ্চয়ই ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি নারী নির্যাতন বন্ধ করে নারী ক্ষমতায়নের জায়গা প্রশস্ত হবে। বাল্যবিয়ে রোধ, পারিবারিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দেখবে সারা জাতি। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনানুগ ও নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের প্রত্যাশা বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ন্যায়বিচার পাবে।

 

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিগত দু’বছরের নারীর প্রতি সহিংসতার একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হল ঃ

ক্রম

ধরন

জানুয়ারি-ডিসেম্বর,২০১৪

জানুয়ারি-ডিসেম্বর,২০১৫

হ্রাস/বৃদ্ধি

যৌন  হয়রানি(including stalking)

২৯৩

৩৬২

২৪%

পারিবারিক নির্যাতন

১০০৫

৯৯৬(স্বামী কর্তৃক হত্যা ৪৮২)

-১%

যৌতুক

৩০৭

৩৯২

২৮%

ধর্ষণ

৭৮৯

১০৬৯

৩৫%

কমিউনিটি ভায়োলেন্স

১৪৬৩

১৪৫৬

০%

ফতোয়া

৩৭

২১

-৪৩%

এসিড সন্ত্রাস

৫৮

৪৫

-২২%

পাচার

৮৪

২৫

-৭০%

অপহরণ

২৫২

২৭০

৭%

১০

নিখোঁজ

১৬০

৭৮

-৫১%

১১

উদ্ধার

৭০০

৭৬০

৯%

১২

গৃহকর্মী (হত্যা/ধর্ষণ/ নির্যাতন)

১০৮

৪৮

-৫৬%

 

মোট

৫২৫৬

৫৫২২

৫%

 

Link: http://www.bnwlabd.org/?p=5901